আখাউড়া রেলওয়ে জংশন দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন। প্রতিদিন বিভিন্ন রুটের বিপুলসংখ্যক যাত্রী এ স্টেশন ব্যবহার করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের জন্য মানসম্মত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের ভাষ্য, স্টেশন এলাকার কয়েকটি খাবারের দোকান গণসৌচাগারের আশপাশে গড়ে উঠেছে। এতে খাবার পরিবেশনের স্থান ও আশপাশের পরিবেশ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের অভাবে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এসব দোকান থেকে খাবার কিনছেন।
এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেন ফ্রান্সপ্রবাসী এস এম ইনামুল হক ভূঁইয়া। তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিয়ম মেনে একটি দোকান বরাদ্দ নেওয়ার পর সেখানে ক্যান্টিন নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
ইনামুল হক ভূঁইয়ার দাবি, সরকারি নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে এবং প্রয়োজনীয় খাজনা ও অন্যান্য সরকারি ফি পরিশোধের পরই তিনি দোকানটি বরাদ্দ পেয়েছেন। রেলওয়ে নিরাপত্তা পুলিশের উপস্থিতিতে এবং আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ও টিআই শাহজাহান পাটোয়ারীর উপস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের দেখানো অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরু করেন তিনি।
তার অভিযোগ, নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন নেতা ও ব্যক্তি হঠাৎ সেখানে এসে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের নিরাপত্তা পুলিশের সদস্য মো. রেজাউল বলেন, ‘ইনামুল সাহেব সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বৈধভাবে দোকানটি বরাদ্দ নিয়েছেন। কিন্তু কিছু অবৈধ দোকানদার ও স্থানীয় নেতাদের পরিচয় দিয়ে কাজটি বন্ধ করার পাঁয়তারা করছে। অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদের বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার থানার আওতাধীন নয়। এটি বেংগল থানার আওতাধীন বলে জানান তিনি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, ক্যান্টিন নির্মাণ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপককে (ডিআরএম) ভুল বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা কিছু অবৈধ দোকানের কারণেও রেলওয়ের নির্ধারিত জায়গা দখল, যাত্রী চলাচলে বিঘ্ন এবং পরিবেশগত সমস্যার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় যাত্রী ও বাসিন্দারা বলেন, স্টেশন এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বৈধ ক্যান্টিন স্থাপনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
তাদের মতে, ব্যস্ত এই রেলস্টেশনে বৈধ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে স্টেশন এলাকার পরিবেশও উন্নত হবে।